কথা
শুচিব্রতা নামে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ বিধবা তাঁর ছোট ছেলেকে নিয়ে ভিক্ষা করে জীবনধারণ করতেন। একদিন বাড়ি ফেরার পথে তিনি রাজকীয় চেহারার একটি ছোট ছেলেকে একা কাঁদতে দেখলেন। সে ছিল বিদর্ভরাজের পুত্র ধর্মগুপ্ত, যার পিতা যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন এবং রাজ্য শত্রুরা দখল করে নিয়েছিল। তিনি তাকে বাড়ি নিয়ে এসে নিজের সন্তানের মতো মানুষ করলেন।
একদিন বিধবা দুই ছেলেকে নিয়ে এক মন্দিরে গেলেন, সেখানে তাঁদের সঙ্গে মহর্ষি শাণ্ডিল্যের দেখা হল। ঋষি রাজকুমারকে চিনতে পেরে বিধবাকে তার কাহিনি বললেন, এবং তিনজনকেই প্রদোষ ব্রত শেখালেন: ত্রয়োদশীতে উপবাস করা এবং সূর্যাস্তের পরে গোধূলিবেলায় শিবের পূজা করা, যখন শিব নৃত্য করেন এবং সমস্ত দেবতা তাঁর সেবায় উপস্থিত থাকেন।
তাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে ব্রত পালন করলেন। একবার নদীতে স্নান করার সময় বিধবার ছেলে এক কলসি সোনা পেল, যা সে তার পালক-ভাইয়ের সঙ্গে ভাগ করে নিল। আরেকদিন ধর্মগুপ্তের সঙ্গে বনে অংশুমতী নামে এক গন্ধর্ব রাজকন্যার দেখা হল; তাঁরা পরস্পরকে ভালোবাসলেন, এবং স্বপ্নে শিবের আদেশ পেয়ে তাঁর পিতা তাঁকে ধর্মগুপ্তের সঙ্গে বিবাহ দিলেন।
গন্ধর্বরাজের সেনা ও শিবের কৃপায় ধর্মগুপ্ত দখলদারদের পরাজিত করে বিদর্ভ ফিরে পেলেন। তিনি বিধবাকে রাজমাতা এবং তাঁর পুত্রকে প্রধানমন্ত্রী করলেন, এবং তাঁরা সকলে আজীবন প্রদোষ ব্রত পালন করে গেলেন।
প্রদোষকাল আরেকটি পরম্পরাও স্মরণ করায়: ত্রয়োদশীর গোধূলিবেলায় সমুদ্রমন্থন থেকে উঠে আসা হলাহল বিষ শিব পান করেছিলেন, এবং সেই সময় দেবতারা তাঁর স্তুতি করেছিলেন।
প্রথাগত কাহিনি থেকে আমাদের নিজের ভাষায় পুনর্কথিত; পরিবারে ও ব্রত-পুস্তিকায় প্রচলিত সংস্করণগুলির খুঁটিনাটি ভিন্ন।